ইউটিউব সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন
বর্তমানে Google হলো পৃথিবীর সব থেকে জনপ্রিয় এবং সব থেকে অধিক ব্যবহার হওয়া ওয়েব সার্চ ইঞ্জিন।
ইন্টারনেট বলতেই আমরা বিশেষ দুই ধরণের সার্চ ইঞ্জিন বুঝে থাকি। কোন তথ্য সার্চের ক্ষেত্রে ওয়েব সার্চ বা Google search এবং দ্বিতীয়টি ভিডিও সার্চ করতে তাদেরই ইউটিউব সার্চ YouTube Search। যেখানে গিয়ে আমরা যেকোন বিষয়ে তথ্য খুঁজে পেতে পারি। যে কোন বিষয়ের সমাধান পাওয়ার ক্ষেত্রে গুগল আমাদের বিভিন্ন websites বা blogs গুলোর তালিকা হতে আমাদের কাঙ্খিত খোঁজ করা তথ্যের সাথে সম্পর্কিত তথ্য প্রদর্শন করে থাকে। বর্তমানে ইন্টারনেট এর মাধ্যমে যেকোন সমস্যার সমাধান খুঁজে নেওয়ার ইচ্ছা এবং চর্চা লোকেদের মধ্যে একটি ব্যাপক প্রচলন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন ফোন কোম্পানিগুলো ইন্টারনেট প্যাকেজের দাম কমিয়ে দেওয়ার ফলে আমরা আজকাল অল্প টাকায় অনেক বেশী ইন্টারনেট ডাটা ক্রয় করতে পারছি। তাছাড়া Internet Speed এখন অনেক বেড়ে গেছে। তাই আজ যেকোন প্রশ্নের উত্তর বা সমস্যার সমাধান আমরা গুগল সার্চ করে blog/website এর মাধ্যমে না খুঁজে ইউটউবের ভিডিওর মাধ্যমে সেগুলো পেতে চাই। আর এক্ষেত্রে আমরা কম্পিউটার হতে যেকোন ব্রাউজারের মাধ্যমে youtube.com সাইটে প্রবেশ করে থাকি। আর স্মার্টফোন হতে ব্যবহার করে থাকি গুগলের তৈরী করা YouTube App.
সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে ইউটিউব!
YouTube হলো গুগলের পর বিশ্বের দ্বিতীয় সব থেকে জনপ্রিয় অনলাইন সার্চ ইঞ্জিন। যেখানে লোকেরা ভিডিওর মাধ্যমে নিজেদের সমস্যার সমাধান পেয়ে থাকেন। Google এর পর পরই ইন্টারনেটে সব থেকে অধিক visit হওয়া ওয়েবসাইট হলো YouTube. প্রতিদিন প্রায় এক বিলিয়ন ঘন্টার ভিডিও লোকেরা ইউটিউবের মাধ্যমে দেখে থাকেন।
YouTube হলো গুগল কোম্পানির মালিকানাধীন একটি অংশ যা Online Video Sharing এবং Online Video Streaming ওয়েবসাইট। এটি এমন একটি অনলাইন ওয়েবসাইট যেখানে মূলত ভিডিও আপলোড করে শেয়ার করা হয়ে থাকে।
একটি YouTube Channel তৈরি করে যে কেউ নিজের বানানো ভিডিও এই ওয়েবসাইটে ফ্রি-তে আপলোড করে তার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। আপলোড করা প্রত্যেকটি Public videos যে কেউ YouTube এর ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখতে পারেন।
কেন ইউটিউব-এ লোকজন ভিডিও দেখতে আসেন?
প্রত্যেক দিন দুনিয়াজুড়ে কোটি কোটি লোকেরা ইউটিউবে বিভিন্ন ধরণের ভিডিও দেখার উদ্দেশ্যে চলে আসেন। কেউ নিজেকে উৎসাহিত করার জন্য motivational video দেখেন, কেউ নতুন কিছু শেখার উদ্দেশ্যে, রান্না-বান্না শেখার কাজে, ইলেকট্রনিক্স সম্পর্কে জানতে আরো কত কি! তবে সব থেকে বেশীর ভাগ মানুষই বিনোদনের জন্য তথা সিনেমা, নাটক, ফান ভিডিও, গান, কার্টুন ইত্যাদি হাজার হাজার বিষয়ে দেখতে ও শুনতে এখানে আসেন। এখানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ হতে অসংখ্য মানুষ অসংখ্য ভিডিও তৈরি করে ইউটউবে আপলোড করছেন। আবার আমাদের মতো সাধারণ লোকেরাই প্রতিদিন ঐ সকল ভিডিও দেখছি।
পৃথিবীর বিভিন্ন মানুষেরা কেন ইউটিউবে এতো বড় সংখ্যায় ভিডিও আপলোড করেন?
কি লাভ হয় তাদের?
আমরা কেন ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করি?
এর জবাব হলো আমার এবং আপনার আপলোড করা ভিডিওগুলো YouTube এ দেখানোর মাঝে মাঝে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের বিপরীতে ইউটউব কিছু অর্থ উপার্জন করে। সেই অর্থের কিছু অংশ গুগল নিজের কাছে রাখে এবং অপর কিছু অংশ content creator দেয়। আর এভাবেই ইউটিউব দিন দিন তার প্রভাব বিস্তার করেই চলেছে। এছাড়াও, বিভিন্ন company গুলো ইউটিউবের মার্কেটিং এর মাধ্যমে নিজের products এবং services গুলোকে অনলাইনে প্রোমোট বা প্রচার করার ক্ষেত্রেও চ্যানেল তৈরি করে ভিডিও আপলোড করেন। যার জন্যে অনেক বড় সংখ্যায় বিশ্বজুড়ে প্রচুর লোকেরা প্রত্যেক দিন নিজের একটি করে ইউটিউবের চ্যানেল তৈরি করে সেখানে ভিডিও আপলোড দিচ্ছেন। তাই, আমরাই ভিডিও বানিয়ে ইউটিউবে আপলোড দিচ্ছি এবং আমরাই এখানে গিয়ে বিভিন্ন ভিডিও দেখছি। এভাবে অধিক পরিমানে traffic/view প্রত্যেক দিন YouTube এর মধ্যে আসার ফলে, গুগলের জন্য এটি একটি ব্যবসার অবস্থান তৈরি হয়ে দাড়িয়েছে এবং গুগল বিভিন্ন company/advertiser গুলো থেকে টাকা নিয়ে সেই কোম্পানি গুলোর বিজ্ঞাপন আমাদের আপলোড করা ভিডিওতে দেখাচ্ছে।
সহজলভ্য ইউটিউব!
বর্তমান সময়ে ইউটিউবের ব্যবহার প্রচুর পরিমানে করা হয়ে থাকে। ইন্টারনেটে সংযুক্ত থাকা যেকোনো মানুষই অন্য যেকোন ওয়েবসাইটের তুলনায় ইউটিউবে বেশি সময় দিয়ে থাকেন। কেননা, আজকাল প্রায় সকলের হাতে থাকা Smartphone দিয়ে কেবল একটি click এর ফলেই আমরা যেকোন জায়গায় থেকে যেকোন ভিডিও ইউটিউবের মাধ্যমে দেখে নিতে পারছি। YouTube হলো কেবল একটি Online Platform বা Website. ইউটিউব মূলত তৈরি করেছেন Chad Hurley, Steve Chen এবং Jawed Karim. Chad Hurley এবং Steve Chen বলেন যে ইউটিউবের আইডিয়াটি মূলত একটি Online dating service- Hot or Not থেকে নেওয়া হয়েছিল যার ডোমেইন নামটি 14 February 2005 তারিখে রেজিস্টার করা হয়েছিল। বর্তমান সময়ে গান থেকে শুরু করে পড়াশোনা, খেলা, যেকোনো বিষয়ে প্রফেশনাল কোর্স ইত্যাদি যেকোনো জিনিস শেখার ক্ষেত্রে YouTube এর ব্যবহার হয়ে থাকে।
ইউটিউবের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করা!
ভিডিওর মাধ্যমে যেকোনো বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা বেশ সহজ। তাই, শিক্ষার ক্ষেত্রে ইউটিউবের ব্যবহার প্রচুর। বর্তমানে আমি আপনি এবং প্রত্যেকেই ইউটিউবে মনোরঞ্জনের ক্ষেত্রে প্রত্যেক দিন কমেও আধা ঘন্টা অবশ্যই দিয়ে থাকি। সিনেমা, কার্টুন, ওয়েব সিরিজ, গান, মোটিভেশন ভিডিও ইত্যাদি বিভিন্ন ধরণের ভিডিও দেখে ইউটিউবের থেকে মনোরঞ্জন নিয়ে থাকি। Digital Marketing বর্তমানে যেকোনো Product বা Service এর প্রচার বা মার্কেটিং করার সেরা মাধ্যম এবং ইউটিউবের মাধ্যমে Online Marketing করার কাজটা অনেক অনেক সহজে এবং লাভজনক ভাবে করে নেওয়া সম্ভব।
অনেকেই আবার ইউটিউবের চ্যানেল তৈরি করেন, নিজের প্রতিভা বিকাশ করার জন্য। নিজের ক্রিয়েটিভিটি দেখানোর জন্য ইন্টারনেটের জগতে ইউটিউবের চাইতে জনপ্রিয় অন্য কিছু নেই বললেই চলে। ইউটিউবের ব্যবহার অনেকে আবার নিজের একটি অনলাইন কমিউনিটি তৈরি করার উদ্দেশ্যে করেন। নিজের Experience, Knowledge, Skills ইত্যাদি ভিডিওর মাধ্যমে শেয়ার করে অনেক বড় সাবস্ক্রাইবার এর পরিবার তৈরি করার উদ্দেশ্যে অনেকে ইউটিউবের ব্যবহার করেন।
ইউটিউবের মাধ্যমে আয় করা?
বর্তমানে ইউটিউব ঘরে বসে আয় করার সহজ উপায় হিসেবে বেশ পরিচিতি পাচ্ছে। তাই প্রায় প্রত্যেকেই আজ এখানে একটি চ্যানেল তৈরি করে আয় করতে চাচ্ছেন। YouTube থাকতে আপনি কখনো একা বা খালি অনুভব করবেন না। কেননা, ইউটিউবে আমরা আমাদের মেজাজ এবং ইন্টারেস্ট হিসেবে যেকোনো ধরণের ভিডিও দেখে নিতে পারি। তাই, টাইম পাস করার ক্ষেত্রে সবথেকে অধিক পরিমানে এই ওয়েবসাইটের ব্যবহার করা হয়। আজ ইউটিউবের কল্যানে আমরা যেকোনো বিষয়ে ঘরে বসেই জেনে ও শিখে নিতে পারি।